প্রশ্ন: একই প্রাকৃতিক যৌগ ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীতে ভিন্ন ফল দিতে পারে কেন?

একই প্রাকৃতিক যৌগ ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীতে ভিন্ন ফল দিতে পারে, কারণ প্রতিটি প্রজাতির শারীরবৃত্তীয় গঠন, বিপাকক্রিয়া, শোষণ, বণ্টন, নির্গমন এবং ঔষধের প্রতি সংবেদনশীলতা একরকম নয়। ফলে একই যৌগ ও একই মাত্রা ব্যবহার করলেও তার কার্যকারিতা ও বিষক্রিয়ার মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে যকৃতের বিভিন্ন ঔষধ-বিপাককারী উৎসেচকের পরিমাণ ও কার্যক্ষমতা প্রজাতিভেদে ভিন্ন হয়। কোনো প্রাণীতে একটি যৌগ দ্রুত ভেঙে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে, আবার অন্য প্রাণীতে সেটি দীর্ঘ সময় শরীরে অবস্থান করতে পারে। কোনো ক্ষেত্রে বিপাকের ফলে মূল যৌগের চেয়েও বেশি সক্রিয় বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হতে পারে। এছাড়া যে গ্রাহক, উৎসেচক বা আয়নপথের সঙ্গে যৌগটি যুক্ত হয়ে কাজ করে, তার গঠন, সংখ্যা ও সংবেদনশীলতাও প্রজাতিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একই পরিমাণ যৌগ রক্তে উপস্থিত থাকলেও জৈবিক প্রতিক্রিয়া একই নাও হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রাকৃতিক যৌগ ইঁদুরে ১০০ মিলিগ্রাম/কিলোগ্রাম মাত্রায় উল্লেখযোগ্য কার্যকারিতা দেখালেও একই মাত্রা অন্য প্রাণীতে কম কার্যকর, বেশি কার্যকর অথবা বিষাক্ত হতে পারে। এজন্য একটি প্রাণী প্রজাতিতে পাওয়া ফল সরাসরি অন্য প্রজাতি বা মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না।

1 thought on “প্রশ্ন: একই প্রাকৃতিক যৌগ ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীতে ভিন্ন ফল দিতে পারে কেন?”

Leave a Comment