প্রশ্ন: পরীক্ষামূলক প্রাণীকে দৈবভাবে বিভিন্ন দলে ভাগ করা হয় কেন?

পরীক্ষামূলক প্রাণীকে দৈবভাবে বিভিন্ন দলে ভাগ করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো গবেষণায় পক্ষপাত কমানো এবং দলগুলোর মধ্যে প্রাথমিক পার্থক্য যথাসম্ভব সমভাবে বণ্টন করা।

একই প্রজাতির প্রাণী হলেও তাদের দৈহিক ওজন, বয়স, বিপাকক্রিয়া, শারীরবৃত্তীয় অবস্থা, আচরণ এবং ঔষধের প্রতি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। গবেষক যদি নিজের পছন্দ অনুযায়ী প্রাণীগুলোকে পরীক্ষামূলক ও নিয়ন্ত্রণ দলে ভাগ করেন, তাহলে অনিচ্ছাকৃতভাবেও একটি দলে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের প্রাণী বেশি চলে যেতে পারে। এতে গবেষণার ফল প্রভাবিত হতে পারে।

দৈবভাবে ভাগ করলে প্রতিটি প্রাণীর যেকোনো দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে পরিচিত ও অজানা বিভ্রান্তিকারী বৈশিষ্ট্যগুলো বিভিন্ন দলে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

উদাহরণস্বরূপ, ২৪টি ইঁদুরকে চারটি দলে ভাগ করতে হবে এবং প্রতিটি দলে ৬টি করে ইঁদুর থাকবে। গবেষক নিজের ইচ্ছামতো নির্বাচন না করে দৈব পদ্ধতিতে তাদের দল নির্ধারণ করবেন। এতে বেশি ওজনের বা বেশি সক্রিয় প্রাণীগুলো শুধু একটি দলেই চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

ফলে গবেষণার শেষে যদি চিকিৎসাপ্রাপ্ত দল এবং নিয়ন্ত্রণ দলের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়, তাহলে সেই পার্থক্যটি প্রয়োগকৃত চিকিৎসা বা পরীক্ষাধীন পদার্থের কারণে হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করার ভিত্তি শক্তিশালী হয়, যদিও দৈব বণ্টন একাই সব ধরনের পক্ষপাত দূর করতে পারে না।

Leave a Comment